বিবাহিত হয়েও কুমারীত্ব না হারানোর অহংকার ছিল আমার!
অহংকার ছিল দীর্ঘ দিনের সংসারী হয়ে ওঠার গল্প বলায়!
সতীত্ব না হারানোর জন্য যে সংসার জীবনে যাপন করে গেছি এতোটা কাল …
অথচ সংসার করেও আমি আমার সতীত্ব হারিয়ে ফেলেছি!
আমি বেশ্যা হয়েছি কোনো একাধিক পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই, আর্থিক লেনদেন ছাড়াই!
এই সমাজ-সংসারে মাত্র একটি পুরুষের জিহ্বায় উচ্চারিত বেশ্যা শব্দ আমাকে চরিত্রহীনার কাটার মুকুট পরিয়েছে।
আমি বেশ্যা হয়েছি ! অথচ, আমার শরীর বিক্রির অর্থ আমার কাছে নেই
আমি বেশ্যা হয়েছি, আমার নিজের কোনো ঘর নেই!
আমি বেশ্যা হয়েছি, আমার গাড়ি-বাড়ি , ব্যাংক ব্যালেন্স অথবা অসংখ্য উপপতির সাথে বিদেশ ট্যুরের ইতিহাস নেই!
অথচ আমি বেশ্যা ! হ্যাঁ…, আমিই বেশ্যা !
শুধুই এই শরীরের বিনিময়ে ঘাম ঝরিয়ে সংসার পেতে চেয়েছিলাম, একটা ছাদ , একটা ঠিকানা চেয়েছিলাম।
এই শরীরের বিনিময়ে সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম
আমার জাগতিক জীবনের খুটি- নাটি, ঘটি-বাটি হেঁসেল- বটি আমার ভেবেছিলাম!
এই শরীরের বিনিময়ে ভাত- কাপড়ের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম,
ভেবেছিলাম, এটাই সংসার!
আর এই সন্তান, সন্তানদের বাবা, এই ঘর, দরজা , পর্দা, চৌকাঠ সব আমার।
নাহ্ , এর কিছুই আমার নয় …! আমি বুঝতে পেরেছি সেদিন, যেদিন জীবনের দুই তৃতীয়াংশ ফুরিয়ে চুল গুলো প্রায় সবটাই শুভ্র রঙে চিকচিক করছে
আমার শরীরের উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ যখন বয়সের তাপে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে
সীতার কন্ঠে ভাঁজের সৌন্দর্য আমার কন্ঠেও দেখেছিল কেউ, কিন্ত সে ভাঁজও দ্বিগুণ হয়ে ঝুলে পড়েছে আজ
অহেতুক জীবন আমার সংসার নামে মরীচিকার পেছনে দৌঁড়েছে
যে সংসার তৈরি করতে নাভিশ্বাস উঠে গেছে , সেই সংসার থেকে মুক্তি পেতে এ কোন নাভিশ্বাস?
সংসার আমাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছে
নারীর কোনো সংসার হয় না ,
নারীর কোনো ঘর হয় না।
নারীর জন্য এই বিশ্বজগত পুরোটাই একটা ব্রোথেল!
Leave a Reply