এই মসজিদের আগে এখানে হাফেজ্বি মাদ্রাসা ছিল যার প্রতিষ্ঠাতা ছিল প্রাক্তন কাউন্সেলর সাজ্জাদ আলী মোল্লা সাহেবের বাবা আক্কাস আলী মোল্লা সাহেব,আমার বাবা মোঃ আলমগীর খান সাহেব,অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সাহেব,কাজি ফারুকি সাহেব এবং আরো অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তিগন জরিত ছিলেন।তাদের মধ্যে শুধু ফারুকী সাহেব জিবিত আছেন তবে তিনি তার ডি ব্লকের ১৬ নং লাইনের বাসা বিক্রয় করে এখন পল্লবীতে বসবাস করছেন।পরে মাদ্রাসাটি একটি দুর্ঘটনার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।অনেক বছর পরে লিটনের বাবা গনি সাহেব,আমার বাবা মোঃ আলমগীর খান সাহেব এবং ত ব্লকের কিছু গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ মিলে পরে এখানে মসজিদের চিন্তা ভাবনা করে।মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবকে ইমাম এবং হাফেজ বেলালকে মুয়াজ্জিন এর দায়িত্ব দিয়ে মসজিদ চালু করা হয়।
মসজিদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন শেষে আজ আনুষ্ঠানিক বিদায় দেয়া হলো।
দীর্ঘ চার দশকেরও অধিক সময় ইমামের দায়িত্ব পালন শেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন শ্রদ্ধেয় মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব। তাঁর বিদায়কে কেন্দ্র করে আজ মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সে এক আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এই বিদায়ী আয়োজনে সর্বস্তরের মুসল্লিগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মাননীয় এমপি মহোদয় এবং আশপাশের এলাকার সম্মানিত উলামায়ে কেরাম উপস্থিত হয়ে প্রিয় ইমামকে ভালোবাসা ও সম্মান জানান।
বিদায়ী সংবর্ধনায় তাঁকে শুভেচ্ছা উপহার, ফুলের মালা, সম্মাননাপত্র ও মিডিয়ার পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সম্মানস্বরূপ অগ্রিম বেতন এবং পাঁচ লক্ষ টাকার নগদ চেক প্রদান করা হয়।
সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় ছিল-এলাকার তরুণদের ভালোবাসায় আয়োজিত ব্যতিক্রমী বিদায়। ঘোড়ার গাড়ি ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ইমামতির জীবনে তিনি শুধু মসজিদের মেহরাবেই দায়িত্ব পালন করেননি, মানুষের সুখে-দুঃখে, জন্ম-মৃত্যুর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছিলেন পাশে। বিশেষ করে করোনাকালীন কঠিন সময়সহ তাঁর ইমামতির জীবনে আড়াই শতাধিক মানুষের গোসল, কাফন ও দাফন-কাফনের কাজে তিনি প্রত্যক্ষভাবে শরিক ছিলেন।
বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। প্রিয় হুজুরকে একনজর দেখতে মসজিদের বাইরেও বহু নারী উপস্থিত হন এবং তাঁকে বিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ যেন একজন ইমামের বিদায় নয়, বরং একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি, একটি প্রজন্মের স্মৃতির বিদায়।
একজন ইমামের জীবনের প্রকৃত সম্মান তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর মানুষের হৃদয়ে যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে যান, তার মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের বিদায় তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আমাদের প্রত্যাশা-দেশের প্রতিটি প্রান্তে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতীবদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের এই সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। তাঁদের দীর্ঘদিনের খেদমতকে মূল্যায়ন করা হোক, আর দায়িত্বের সমাপ্তিতে ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের বিদায় জানানো হোক।
মহান আল্লাহ তাআলা মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের দীর্ঘদিনের ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তাঁকে সুস্থতা, নেক হায়াত ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।
Leave a Reply