১৯৫৮ সালের ১৫ ই জানুয়ারী ঢাকা মিরপুরের বাঘবাড়ীতে জন্ম গ্রহন করেন – এই মহান ব্যাক্তি ডিপজল
তার বড় ভাই – সাহাদত হোসেন বাদশা প্রযোজিত ” অমি বনি কথাচিত্র ” পরিবেশিত প্রথম ছবি ” টাকার পাহাড় ” ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আসেন – মনোয়ার হোসেন ডিপজল ( ডিপু ভাই)তার বিপরিতে নায়িকা ছিলেন – মিষ্টি, ছবিটির পরিচালক ছিলেন – মনতাজুর রহমান আকবর – এরপর তাদেরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ” হাবিলদার ” ছবিতে আবার নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন – মনোয়ার হোসেন ডিপজল – তার বিপরিতা নায়িকা ছিলেন – লিমা,ছবিটির পরিচালক ছিলেন – আবিদ হাসান বাদল
কিন্তু ছবিি দুটি হিট হইলেও দর্শক হৃদয়ে সাড়া ফেলতে পারেননি – ডিপজল
তখন বেশ কিছু দিন বিরতীর পর নতুন করে ভিলেন হিসেবে পর্দায় আনার জন্য রিস্ক নেন – বিখ্যাত পরিচালক কাজী হায়াৎ – তাদেরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মান করা হয় ” তেজী ” ছবিটি আর এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন – কাজী হায়াৎ
” তেজী ” ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সারা দেশে আড়োলন সৃষ্টি করেন – ভিলেন ডিপজল – এরপর একের পর এক ছবি করতে থাকেন – ভিলেন হিসেবে, ব্যাস যে ছবিই মুক্তি পায় সব ছবিই সুপারহিট হয় –
তাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কাজী হায়াৎ কে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওযয়া, তখন আবার কাজী হায়াৎ নির্মান করেন ” আম্মাজান ” ছবিটি ব্যাস জুটি হয়ে যান – মান্না ডিপজল আর কাজী হায়াৎ – যে ছবিতে এই তিন জন থাকবে – সেই ছবিই মার মার কাট কাট ব্যাবসা করে – পুরো ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে একটি জোরে আওয়াজ উঠে যায় –
এই তিন জুটির অনেক গুলো ছবি তারা করেছেন –
১. আম্মাজান
২. ধর
৩. বর্তমান
সহ অসংখ্য ছবি করেছেন তারা – কিন্তু হঠাৎ করে ছন্দ পতন হয়ে গেল, তিনজন আলাদা হয়ে গেলেন – এবং দর্শকদের আওয়াজ ও থেকে গেলো – মান্নার উপরে কাজী হায়াৎ নারাজ হলেন আর তার পরিচালনার ” ইতিহাস ” ছবিতে তার ছেলে ” মারুফ ” চলচ্চিত্রে আনলেন –
বিষয়টি এমন ছিলো – কাজী হায়াৎ তার নিজস্ব প্রযোজনায় ছবি নির্মান করবেন, তার ম্যানেজারকে পাঠান মান্নার কাছে কিন্তু মান্নার সিডিউল নাই, সেটা সাফ জানিয়ে দেন, মান্নার এই কথায় অনেক আঘাত পেয়েছিলেন, কাজী হায়াৎ তখনই জিদ করে নায়ক হিসেবে তার ছেলে কাজী মারুফকে চলচ্চিত্রে আনেন এবং সৃষ্টি করেন এক নতুন ইতিহাস –
নায়ক মান্না বরাবরই বলে আসছিলেন কাজী হায়াৎ তার চলচ্চিত্রের বাপ কিন্তু এমন আচরন কেন সেই দিন করেছিলেন তা কারও বোধগম্য নয়, তবে ” ইতিহাস ” ছবিটি মুক্তির পর যখন সুপারহিট হলো তখন মান্না হাজী হায়াৎ এর বাড়ীতে গিয়ে পা ধরে মাফ চেয়েছিলেন –
বলেছিলেন বাবা আপনি যদি মাফ না করেন, তাহলে চরচ্চিত্র থেকে আমি চলে যাবো, কারন ছেলে হিসেবে বাপের সঙ্গে বেয়াদবিটা করে আমার ঠিক হয় নাই –
এই জলঘোলার মধ্যে কে বা কাহারা ডিপজল সাহেবকে ভিলেন থেকে নায়ক হবার পরামর্শ দেন, ব্যাস ওনি সহজ সরল টাইপের মানুষ ওনিও রাজী হয়ে যান, আর কি বলার চলচ্চিত্রে একজন দাপটে ভিলেন হারিয়ে গেলো –
এখানেও চলচ্চিত্র একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল – যেমনটি খেয়েছিল – ১৯৯৬ সালে পরপর তিনটি নায়কের চলচ্চিত্র থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এবং এক নায়িকার বিদায় নেওয়া –
১. সালমান শাহ
২. জসিম
৩. সোহেল চৌধুরী
৪. শাবানা
আর ফিল্মে এতোটা পলেটিক্স করে – তারা আগামী দিন ভালো কাজ কেমন করে করা যাবে তা নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই – মাথা ব্যাথা শুধু কাকে কখন সরাতে হবে, কাকে ল্যাং মারতে হবে আর কোন ছবিটিকে ফ্লপ করাতে হবে, সারাক্ষন শুধু এই গবেষনা নিয়েই তারা ব্যাস্ত থাকে-
বর্তমানে দু একজন ছাড়া ফিল্মের জন্য কেউ ভাবে না, আর যারা ভাবে তাদের আবার কেউ দেখতে পারে না –
এই এই করে বর্তমান চলচ্চিত্র ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে –
কয়েক আগে দেখলাম কে বা কাহারা একজন পাগল মহিলাকে ডিপজল সাহেবের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে, ঐ যে বললাম ফিল্ম নিয়ে দু এক ভাবে তার মধ্যে ডিপজল সাহেব একজন, এখন ডিপজল সাহেবের সন্মান কিভাবে ক্ষুন্ন করা যায়, তাকে কিভাবে হেনস্তা করা যায় – সে কাজ করতেছে সাধু শয়তানেরা –
কি লাভ হবে ডিপজল সাহেবকে ছোট করে, ওনি যদি মনে করে ছবি বানাবো না তাহলে তার কিছু আসে যাবে, ওনি সারা জীবন বসে খাবে তারপরও সম্পদ শেষ হবে না কিন্তু আপনার আমার পাছার প্যান্ট খুঁজে পাবো না, এটা হিসেব রাখেন –
ডিপজল ভাই আমার ফিল্মে ৩৫ বছরের মধ্যে আমার চোখে দেখা দু একজন ভালো মানুষের মধ্যে আপনি একজন – দোয়া রইল আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্হ্য ও সুন্দর রাখেন –
বিঃদ্রঃ আমার পরিচালনার তিনটি ছবির স্যুটিং সাভার ডিপজল ভাইযের বাড়ীতে করেছি –
১. এসোনা প্রেম করি
২. কেন সন্ত্রাসী
৩. রাজকুমারী
রবিউল ইসলাম রাজ
চলচ্চিত্র পরিচালক
01948-329383
Leave a Reply