গত ১৫ তারিখ ছিল ইদের ১০ দিন ছুটির পরে প্রথম কার্যদিবস ফলে সকাল থেকেই মানুষ ছুটছিল অফিসের দিকে, ব্যস্ত রাস্তা, আমিও শুটিং এ যাচ্ছিলাম পুবাইলে মটর সাইকেল চালিয়ে, মিরপুর ১১ পার হবার পর হঠাৎ আমার বাইক বিকল হলো এমনই বিকল ঠেলে সামনেও নিতে পারছিনা পিছনেও নিতে পারছিনা, টানতে টানতে কোন রকম রাস্তার পাশে আনলাম, দরকার এখন একজন বাইক মেকানিক, কোথায় পাই, আশেপাশে যতগুলো গ্যারেজ ছিল কোনটাই এখনো খোলেনি, তখন বাজে সকাল পৌনে আটটা এদিকে আমার সাড়ে নয়টার মধ্যে পুবাইল পৌঁছাতে হবে, সিদ্ধান্ত নিলাম কোন মার্কেটের গ্যারেজে রেখে চলে যাই, তাতে আমি ব্যর্থ হলাম,এরকম অসহায় অবস্থায় কবে পড়েছি মনেও নেই, অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, ব্যস্ত মানুষ ব্যস্ত রাস্তা আস্তে আস্তে আরও ব্যস্ত হচ্ছে, কেউ কেউ আমার দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু চলে যাচ্ছে,
বোরহান নামের একজন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এগিয়ে জানতে চাইলো এবং সে দেখলো তারপর আমার কাছে থাকা টুলস্ দিয়ে কিছুক্ষণ চেস্টা করলো, তার চেস্টা দেখেই বুঝতে পারছিলাম সে একাজের লোক নয়,সে কোন এক বাস কোম্পানির লাইনম্যান মিরপুর ১২ নাম্বারে তার ডিউটি, আমার ব্যস্ততা দেখে সে বললো আপনি বাইক রেখে চলে যান আমি একটা ভ্যান ডেকে এনে এটা উঠিয়ে গ্যারেজে নিয়ে ঠিক করে রাখবো, আপনি ফেরার সময় নিয়ে যাবেন,আমিতো অবাক যাকে কোনদিন দেখিনি এরকম কথা বলে কি করে, তাকিয়ে থাকলাম, আমার ভেতরে কি কাজ করলো জানিনা তবে বলে ফেললাম ঠিক আছে রাখেন, যাওয়ার আগে ফোন নাম্বার বিনিময় করলাম, পুবাইলে শুটিং এ চলে গেলাম, শুটিং এ গিয়ে সবাইকে যখন বললাম সবাই একই কথা বললো এভাবে অপরিচিত কারো কাছে বাইক রেখে আসাটা ঠিক হয়নি,আমি বোরহানকে ফোন দিলাম কিন্তু ফোনতো বন্ধ, এবারতো আমার টেনশন চুড়ান্তে পৌঁছে গেলো, ওর নাম্বার দিয়ে ওকে কিভাবে খুজে বের করা যায় সেই পরিকল্পনা করছিলাম, দুপুরের পর মোবাইলে দেখি ১৩টা মিসকল, সবই বোরহানের, শুটিংয়ে থাকাতে ফোনটা নিঃশব্দ করা ছিল, বোরহানের সাথে কথা বললাম, বললো বাইকটা একটা ভ্যানে করে গ্যারেজে নিয়ে ঠিক করে ফেলেছে ফেরার সময় যেন নিয়ে যাই, গ্যারেজে যা খরচ তা জানালো, এই কাজের জন্য কত খরচ হতে পারে আমার ধারনা ছিল, আমার যা ধারনা তাই বললো, রাতে ফিরে বাইক নিলাম, তারপর আমি আর বোরহান চা খেলাম, আমি বুঝতে পারছিলাম না বোরহান কে কত দেবো, কিছু টাকা বের করে হাতে দিয়ে বললাম বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যান, সে নিলোনা, সর্বোচ্চ চেস্টা করেও তার হাতে টাকা দিতে পারলামনা, বললো আমিতো টাকার জন্য আপনাকে সাহায্য করিনি, আপনাকে অসহায় অবস্থায় দেখে আমার মনে হলো আপনার জন্য কিছু করতে পারি কিনা, কারো জন্য কিছু যে করতে পারলাম তাতেই আমার শান্তি, তাকে কথা দিয়ে আসতে হয়েছে প্রতি সপ্তাহে মিরপুর ১২ নাম্বারে গিয়ে তার সাথে আমি যেন এক কাপ চা খাই,
এরকম বোরহানদের সাথে আমরাতো চলিনা, ওঠা বসা করিনা তাদের সাথে মিশিনা, বোরহানরা আসলে কারা? রাস্ট্রে বড় বড় পদে আসীন যারা তারা শত কোটি টাকা চুরি করে বেঁচে যাচ্ছে আর বোরহানরা কোনো করুণা নিতে চায়না, তারা তাদের প্রাপ্যটাও বোঝেনা,
এ ছিলো আমার জীবনের অন্যরকম একদিন, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, কিন্তু এ পাপ আমরা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি, আমরা কাউকে যেমন বিশ্বাস করিনা ঠিক তেমনি আমদেরকেও কেউ বিশ্বাস করেনা, এই অবিশ্বাসের খেলা বাড়ছেতো বাড়ছেই।।।
Leave a Reply