বিভিন্ন কোম্পানি ভিজিট করছি। কনস্ট্রাকশন কাজের জন্য যে ড্রাইভার বিল্লাল ভাই নিয়ে এসেছিলেন সেই হলো আবদুল হালিম। হালিম আবার আমার ড্রাইভিং শেখার ওস্তাদ। হালিম বললো সে রিলিজ নিবে না। আমার সাথে থাকবে। কিন্তু সে এটা বুঝেনি আমার আর ওর কোম্পানি ভিন্ন, এক কোম্পানি নয় যদিও ওনার একই ব্যক্তি।
হালিমকে নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে খোঁজ নিচ্ছি তাদের লোক লাগবে কিনা। হালিমকে দেয়া হয়েছিলো ভাঙ্গা চুঙ্গা লক্কর ঝক্কর একটা পুরানো পিকআপ গাড়ি। যেটার গিয়ার পড়তে চাইতো না, পথেঘাটে বন্ধ হয়ে যাওয়া এর একটা কমন রোগ ছিলো।
এ গাড়িটিও আমি কিছুদিন চালিয়েছি। টেনশনে থাকতে হতো সব সময়ই এই বুঝি বন্ধ হয়ে গেলো। রাস্তার মধ্যে বন্ধ হয়ে পড়লে সৌদিদের গালি হজম করতে হতো।
কনস্ট্রাকশন কাজের অনেকেই নিজেরা কোম্পানির খোঁজ নিয়ে এসেছে। পরে ওদেরকে নিয়ে ঐ কোম্পানি ভিজিট করেছি এবং ডিমান্ড লেটার এনে ইয়াসেরকে দিয়েছি। পরবর্তীতে ইয়াসের পাসপোর্ট ও ইকামা আমার হাতে দিতো। আমি ঐ নির্দিষ্ট কোম্পানিতে এগুলো জমা করে দিতাম এবং ইকামা ট্রান্সফার হলে তার কপি সংগ্রহ করে ইয়াসেরকে দিতাম। দুই মাসের ভেতর একে একে প্রায় সকলেই অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার হয়ে গেলো। ওরা ভীষণ খুশি।
এরপর ওদের কেউ আমাকে পথে ঘাটে দেখলে দৌড়ে কাছে আসতো, সালাম দিতো, কুশলাদি জিজ্ঞেস করতো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতো। অনেকে জোর করে চা খাওয়ানোর চেষ্টা করতো। কেউ কেউ বেকারিতে ঢুকেছিলো। আর যদি কখনো ঐ বেকারিতে যেতাম তবে বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট ও রুটি পলিথিন ব্যাগে বোঝাই করে দিয়ে দিতো।
কিন্তু একমাত্র বশির ভাই এক্সজিটে চলে যেতে চাইলো। আর হালিম চাচ্ছে আমার সাথে থাকতে। এবার বশির ভাই চাইলো আমার কালো ব্রিফকেসটি। আমাকে এর পরিবর্তে উনার চকলেট রঙের ব্রুফকেসটি দিলো। বশির ভাই একদিন আমার কালো রঙের ব্রিফকেসটি নিয়ে বাংলাদেশে চলে গেলো। আর দেখা হয়নি বশির ভাইয়ের সাথে।
এদিকে হালিমকে দিয়ে অমানুষিক কাজ করাতে শুরু করলো ইয়াসের ও তার বাবা। অনেকটা হাউজ ড্রাইভারের মতো। এদিকে ইয়াসেরের কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বন্ধ হয়ে পড়লো। আর আমাকে যে কাজের জন্য আরেকটি কোম্পানির নামে এনেছিলো সেটার ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গোলো।
ইয়াসের আহমেদকে রিলিজ দিয়ে দিলো কিন্তু আমাকে রিলিজ না দিয়ে ওর পেট্রোল পাম্পের অফিসে বসতে বললো। তখন ওখানকার বাংলাদেশি কর্মীরা আমাকে সতর্ক করলো এখানে কাজ না করার জন্য। বললো, অমানুষিক কাজ করাবে, বেতন কম দিবে এবং ট্রিট করবে চাকরের মতো। চলবে ….
Leave a Reply