একজোড়া চোখের জন্য কতোবার প্রেমময় ঘূর্ণি
চোখের মধ্যে জলের পাক ছিলো শুনতে হয়েছে
ক্ষণিক দর্শনে তীক্ষ্ণ চোখাবুদ্ধি মগজে খেলে নি
ঘূর্ণিত নয়নে ডাংরি গাইয়ের উপমা দিয়েছো।
তখন বোধের ঘর শূন্য ছিলো নবঋতুমতী
চোখকাব্য খুব প্রিয় ছিলো শাব্দ সরু পেনসিলে
উনান জ্বালানো চোখ এঁকে শিখা নিভিয়ে রাখার
ছায়াময় নবমেঘ দিয়ে ঢেকে দিতে সেই চোখ।
একাধিক এলোমেলো বর্ণনায় নন্নড়ে আমার
অপ্রীত চোখের ভাষা গুপ্ত হলো রূপজ রেবনে
এবার বললে স্মার্ট, টলোমলো চোখ ঢেকে গেছে
কালো কাচে কালো চোখ আভাসের অস্পষ্ট প্রকাশ।
দিঘির জলের মতো টলটলে চোখের গভীরে
প্রায়শ তোমার মুখ ভেসে ওঠে শাসানো অছিলা
চুম্বন মুহূর্তে রাশ টেনে ধরে রাজদন্ত দিয়ে
আমূল বসিয়ে দিতে গাঢ় শ্যাম নীলের আমেজ।
ভাবলাম তিরস্কারে অভিযুক্ত অনুরূপ চোখ
সুন্দরের বিপরীত লোভরূপ হারাই কী করে!
পরদিন সারারাত ঘুমহীন কৃপণ সঞ্চয়ী
রক্তজবা চোখ নিয়ে মুখোমুখি হই তার সাথে।
লাল গোলাপের আভা ছড়িয়েছো কেন চোখ জুড়ে
কী যে মায়াময় দৃষ্টি, পাপড়িতে কাঁটাগাছ বোনা
সুষমামণ্ডিত চোখে গুহ্য চুমু অমৃত ছোঁয়ায়
প্রীত হই সত্য, কিন্তু কৌমার্যের অভিপ্রায়ে নয়
সতত স্পন্দিত প্রেম শুধুমাত্র চক্ষু সন্ধিস্হলে?
শারীরিক তেজস্বিতা, মনমূল কোথায় গ্রথিত
তোমার দুর্ভেদ্য পর্দা তুলে নাও, চোখের গভীরে
দেখো জৈবিক চলন, অত্যুত্তম বোধের সাগর।
দীর্ঘতর ঘুম শেষে ফোলা চোখ তোমাকে দেখালে
আরও উৎকর্ষ লক্ষ্যরূপ গণ্য করে গর্ব করো
প্রেমমূলক প্রতীক যুক্তিরূপে প্রতিলিপি মাত্র
সত্য ও পবিত্র দাবি মূর্ছাহত করেছে আমাকে।
একদিন ড্রাই-জিন গিলে তুচ্ছ উত্তপ্ত উগ্রতা
অতিক্রম করে চোখে বিস্ময়ের অটল বারতা
আর সারসত্য নিয়ে কাঁপা কাঁপা ওষ্ঠ অধরেতে
চুম্বন না করে চন্দ্রমুখী বেছে নিলে চক্ষুদ্বয়।
চোখের বিরম্বনায় অসন্তোষ বিরস বিরহে
জোরালো ও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছিলো প্রেমগত সত্য
করুণা ও মঙ্গলের আলো দিয়ে নিষ্প্রাণ করেছি
নিজের চোখকে, তবু দীর্ঘশ্বাস চোখের উপরে।
তোমার নির্দিষ্ট ক্ষণে স্বাভাবিক হয়ে গেলো স্বপ্ন
আমার গৌরব গাথা চূড়ামণি, বিকম্পিত চোখ
যখন ঝরনা ধারা হয়ে গেলো তখন তোমার
চোখে নেমে এলো ঘোর অন্ধকার প্রেম ভাঙা ভোর।
কেবল আমার চোখ দুটো ছাড়া প্রেম ছিলো মৃত
চোখ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণময় শিল্পের আধার
অন্তর সৌন্দর্য ছিলো শুষ্ককাণ্ড নীল ঝরা পাতা
পত্রশূন্য পড়ে আছি একগাদা প্রেমহীন স্তূপ।
______________________________________

রচনাকাল :
১৫ এপ্রিল, ১৯৭৮
এ জাতীয় আরো খবর..
Leave a Reply