1. banglamailnews72@gmail.com : banglamailnews : Zakir Khan
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

“মহান বিজয়ের মাস সবার ভিতর খাঁটি বাঙ্গালিত্ব,সত্যিকারের দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলুক” ————————————— –পারভীন আকতার

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪০০ বার

## ছোট্ট আদুরে এক এঞ্জেল আমার ঘর আলো করে আছে।সে খুবই সমজদার এই বয়সেই।হয়তো আমাদের পরিবেশ তাকে তা শিখিয়ে দিয়েছে কিভাবে চলতে হয়,বলতে হয়।সবাই যখন যে যার কাজে ব্যস্ত সে কোথাও লাইট জ্বলছে কিনা, কোথাও অগোছানো কিনা,অযথা গ্যাস জ্বলছে কিনা তদারকি করে।হয়তো পরিবারের সবাই এসব করে বিধায় তার মাঝেও সেই দেখভাল করার প্রবণতা চলে এসেছে।ব্যাপারটা ইতিবাচক বটে।আমাদের আর ছোট্ট বেবীর জন্য এক্সট্রা টেনশন করা লাগেনা,সে নিজেই নিজেকে গুছিয়ে রাখে,পরিশ্রম অনেক কমে গেছে বাচ্চা পালার মহান দায়িত্ব থেকে।আলহামদুলিল্লাহ এতে সুখেই আছি বলতে হয়।
##চাকরীজীবীর সন্তানরা খুবই অসহায়,দেখার লোক থাকেনা তাই তাদের ছোটবেলা থেকে সেলফ ডিফেন্ডেড হতে হয়।কোন উপায়ও নেই আর।স্বাধীনতা বলতে অল্প যে টুকু তা চার দেয়ালের মাঝেই সীমাবদ্ধ। কোন খেলার সাথী নেই।কার্টুন আর ইউ টিউবে রাজা রাণীর গল্প,ছবি আঁকা শেখা আর বইয়ে মুখ গুজে জীবন কাটানো এই আমাদের জীবন পরিক্রমা।বলতে পারেন বলেন বিজয় মাসের সাথে এর সম্পর্ক কি?আছে নিশ্চয়ই। এখন তাই বলছি।
##আমার মেয়েটা পড়ে প্রাকপ্রাথমিকে।অ আ শিখা ছাড়া আর তেমন কোন পড়াই নেই।সে বিরক্তবোধ করে এক পড়া বার বার পড়া।গণিত, ইংরেজিতে তার পড়ালেখা শ্রেণী ভিত্তিতে যোগ্যতা অর্জন হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।কিন্তু বাংলা?বড়ই দূর্বোধ্য তার কাছে ি,ী ু ূ এসব।শুধুই কান্না করে পারেনা বিধায়।আসলেই কি সে পারেনা?পরখ করলাম তার কঠিন লাগে তাই সে মন বসায় না।এখন উপায় কি?
## রেহনুমা মাকে কোলে নিয়ে বসালাম,বুকে মাথাটা রাখতেই শীতল হল মন।নাড়ীর টান মনে হয় একেই বলে।তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মা আমার বুকে মাথা রেখে তোমার কেমন লাগছে?বল্ল,ভালো লাগছে খুব। তখন সেই সুন্দর মুহূর্ত আমি মিস করলাম না।বললাম আমাদের মাতৃভাষাটাও ঠিক তেমন।এই ভাষার জন্য সালাম রফিক জব্বার জীবন দিয়েছিল ১৯৫২ সালে।কত রক্ত ঝরেছে মায়ের মুখের ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য।আমার চোখে জল চলে এলো।আমি খুব ভালোবাসি আমার দেশ আর বাংলা ভাষাকে।অনেক কষ্টের অর্জন এই ভাষা, এই 🇧🇩 বাংলাদেশ। আরো অনেক রেফারেন্স দিলাম ওকে।আমি কাঁদছি আর কাঁদছি মেয়ে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।জানিনা এত ছোট বয়সে সে কি বুঝল।কতটা তার মাঝে আমি দেশের প্রতি মায়া, বাংলা ভাষার প্রতি অনুরাগ জাগিয়ে তুলতে পেরেছি।আজকের শিশু আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠতে পারলেই কেবল বাংলাদেশ বিজয়ীর বেশে আজীবন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।এরপর ওকে আমার আর কিছু বলতে হয়নি।সোজা পড়ার টেবিলে বসে খুবই মার্জিত আর সুন্দরভাবে বাংলাভাষা পড়া আর লেখা দুটোই আমাকে সে মুখস্থ বল্ল আর লিখে দিল।আমি অনেক দোয়া করেছি এই ভেবে যে ওকে আমি এই বয়সেই মাতৃভাষার প্রতি, দেশের প্রতি মমতা জাগাতে সক্ষম হয়েছি।আপনারাও পারবেন ছেলেমেয়েদের রোবট না বানিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন,খাঁটি বাঙ্গালি হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন।ছোট বেলা থেকেই এসব শিশুদের ভিতর ঢুকিয়ে দিতে পারলেই কেবল এই দেশে যত অনাচার,অশান্তি দলাদলি,ঘুষ,অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হবে বলে আমি আশা করি।মহান বিজয়ের মাসে নয় বাকী এগারো মাসেও আমরা বাঙ্গালিত্ব মনে আর রক্তধারায় ধরে রাখবো এই কামনা করি।দেশ বাঁচলে আমি আমরা সবাই বেঁচে থাকবো শান্তিতে, সুরেলা ঐকতানে।ধন্যবাদ সকলকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..