আমি তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। রামপুরার উলন রোডের গলিতে ঢুকতেই প্রচুর “পড়াতে চাই” লিফলেট লাগানো থাকে। ভাবলাম আমিও দেই। যদি ২/১ টা টিউশনি পাওয়া যায়। কম্পিউটার দোকান থেকে প্রিন্ট করে বের করলাম এরকম লিফলেট। এলাকার টোকাইকে ৫০ টাকা দিয়ে বললাম, রাত ১২ টার দিকে সব দেয়ালে লাগাবি। মনের আনন্দে বাসায় গিয়ে ঘুম দিলাম। ছোট গলিতে ১০০ মত লিফলেট লাগানে হবে। যাই হোক। পরদিন ৯ টার দিকে একজন ফোন করে বললেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমাকে সকল বিষয় পড়াতে চান। এরপর রামপুরা একরামুন্নেছা বিদ্যালয়ের শিক্ষক কল দিয়ে বললেন তিনি পড়াতে চান। এভাবে ১ ঘন্টায় প্রচুর ফোন। সবাই শুধু আমাকে পড়াতে চায়। পরের ২ ঘন্টায় অবস্থা আরো খারাপ। এত ফোন। সব শিক্ষক ফোন দিচ্ছে। কেউ আমার কাছে পড়ার জন্য ফোন দিচ্ছে না। ঘটনা কি জানতে বের হলাম।
গিয়ে ত চোখ কপালে। কম্পিউটার টাইপিং মিসটেক। পড়াতে চাই এর যায়গায় হয়েছে “পড়তে চাই”

শুধু “া” অক্ষর বাদ যাওয়াতে লিফলেটের অর্থই পরিবর্তন হয়েছে।
অবস্থা বেগতি দেখে মোবাইল বন্ধ করে দিলাম। সন্ধ্যার পর টোকাইকে খুঁজে বের করলাম। আবার ১০০ টাকা দিলাম লিফলেট দেয়াল থেকে তুলে ফেলার জন্য। রাত ১১ টার পর আমি আর টোকাই মিলে ২ ঘন্টা ধরে তুলে ফেললাম সব লিফলেট।
আমার হাউজ টিউটর হওয়ার স্বপ্ন’র আপাতত মৃত্যু হল।
Leave a Reply