ছবির ভদ্রলোক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি আর্মিদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন। উনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য ছিলেন, যারা ঢাকা শহরে বিভিন্ন আর্মিদের ক্যাম্পে ঝটিকা আক্রমণ করত। পাকিস্তান আর্মিরা জমের মত ভয় পেতেন এই গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের।
উনি আমাদের শৈশবের নায়ক ছিলেন। ‘আবার এলো যে সন্ধ্যায় শুধু দুজনে’, আহা, ঘুড্ডি ছবিতে সুবর্ণা মুস্তাফা আপার সাথে কক্সবাজারের সেই গানের দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। সেই সময়ে কতটা আধুনিক নায়ক ছিলেন উনি, উফ!
ঢাকা থিয়েটারের সাথে জন্মলগ্ন থেকেই যুক্ত। গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’ এবং ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে উনার নাটক মানেই ছিল সেই রাতে মধ্যবিত্ত পরিবারের সকলে মিলে টিভি সেটের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়া। সেই রাতে ঢাকা শহরের রাস্তায় রিকসা কমে যেত, সবাই চলে যেত টিভি সেটের সামনে।
উনি আমাদের সমবেত গানের অসম্ভব ভক্ত। উনি আমাদের মহড়া এবং অনুষ্ঠানের খোঁজ খবর রাখেন। সাধারণ মানুষকে নিয়ে সমবেত গান গাওয়াকে এপ্রিসিয়েট করেন। সুরবন্ধন এর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
উনি নিজেও খুব ভালো গান করেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে উনার সাথে দ্বৈত গান গাইবার; সলিল চৌধুরীর গান, শেখ লুতফুর রহমানের গান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, আহা!
বন্ধুরা, আজ বাংলাদেশের সূর্যসন্তান, ক্র্যাক প্লাটুনের বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা, নাট্যকর্মী, সু-গায়ক রাইসুল ইসলাম আসাদ ভাইয়ের জন্মদিন। এই মানুষগুলোর জন্যই পেয়েছি আমাদের বাংলাদেশ, প্রাণের লাল সবুজ পতাকা, পেয়েছি প্রিয় মানচিত্র।
প্রিয় আসাদ ভাই, জন্মদিনে প্রণাম জানবেন। আরো অনেকদিন সুস্থ থাকুন আমাদের জন্য, জন্মভূমির জন্য, প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশের জন্য। জীবন সুন্দর, আনন্দম।
Leave a Reply