1. banglamailnews72@gmail.com : banglamailnews : Zakir Khan
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মিরপুর ২ এ জাতীয় গৃহায়নের নিষ্কন্টক ৭৬ কাঠা জমিতে, শেয়ারে নির্মিত হতে যাচ্ছে সুপার কন্ডোমিনিয়াম ” দা ফ্যালকন হাইটস” নীলকলম সাহিত্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ,নীলকলম সভাপতি বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক মাহবুবা চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা আজ এক ঝাঁক সাহিত্য প্রেমী গিয়েছিলাম মানবিক কাজে ,বেওয়ারিশ মানবসেবা বৃদ্ধাশ্রমে – – – – শিরিন আফরোজ মাত্র ৮,০০০ টাকা মাসিক কিস্তিতে শুরু হোক আপনার স্বপ্নের বাড়ির যাত্রা কৃষিবিদ সিটিতে ———– শিক্ষা কোনো দল, মত বা আদর্শের বিষয় নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন সামাজিক দায়িত্ব – – – লামিয়া ইসলাম শীতে কাঁপছে দেশ     – – – –           নার্গিস আক্তার  কি আজব এ দুনিয়া! – – – – – জাকারিয়া হাসান সুমন জ্যোতিষ রাজ লিটন দেওয়ান চিশতী সাহেবের সঠিক পরামর্শ নিন ———————— সাউথ এশিয়ান হোল্ডিংস লিঃ এর কিছু প্রজেক্ট দেয়া হলো……………………………… “মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠ এবং বিভিন্ন বিষয়ে অবদানের জন্যে গুনীজনদেরকে লালকুঠি সাহিত্য পরিষদ পদক প্রদান অনুষ্ঠান – মধুর দেশ বাংলাদেশ – – – – জাকির খান

একবিংশ শতাব্দীর ‘ভাষাসৈনিকের’ গল্প শুনতে চান? তাহলে শুনুন ‘অভ্র’ কি-বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা মেহদি হাসান খানের কথা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৫০ বার
২০০৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে রোগাটে ধরনের একটা ছেলে ভর্তি হল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে।
চোখে চারকোণা চশমা। মাথা ভর্তি চুলে চিরুনি চলে না সেভাবে। প্রাণোচ্ছল। আড্ডাবাজ। গভীর বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টি। ১৮ বছর বয়সের ছেলেরা যেরকম হয় আর কি!
সহজ ভাষায় এই হচ্ছে মেহদি। মেহদি হাসান খান।
মেডিকেল কলেজ চিকিৎসক তৈরি করবে, সেটাই স্বাভাবিক; কিন্তু মেডিক্যাল কলেজ যদি সফটওয়্যার ডেভেলপার সৃষ্টি করে, তাহলে তা আশ্চর্যের বৈকি!!! কিন্তু তাই ঘটেছিল ২০০৩ সালে। কীভাবে? তাহলে শোনাই যাক গল্পটা।
১৭ বছরের ছেলেটা ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটা কাজে সরব, উপস্থিতিও সেরকম প্রাণোচ্ছল। হঠাৎ করে ছেলেটা হয়ে গেলো চুপচাপ। মাথা নীচু করে হাঁটছে, জিজ্ঞাসা করলে কথা বলছে। মেহদির চরিত্রের সাথে যায়না, অন্তত যারা ওর সাথে আড্ডা দিতো, তাদের জন্য অবশ্যই।
এর মাঝে জানা গেলো বাংলা লেখার জন্য ওর নিজের বানানো একটা সফটওয়্যার আছে।
খুব করে চেপে ধরতেই জানা গেলো ঘটনা। ইংরেজি অক্ষর টাইপ করে কী-বোর্ডে বাংলা লেখা যায়! এই হচ্ছে মেহদির বানানো সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য। রোমান টাইপ করে বাংলা লেখার প্রথম সফটওয়্যার।
কত করে নিবি? জানতে পেরে বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করে মেহদি-কে।
কীসের কত করে নিবো?
এরপরে মেহদী যা বললো, তাতে আক্কেলগুড়ুম হয়ে গেলো। ১৮ বছরের একটা ছেলে বলছে, ফ্রি!!!
ভাষার জন্য টাকা নেবো কেন?!
হ্যাঁ, এ ধরনের বৈপ্লবিক কথাবার্তা এই বয়সেই মানায়। কারণ, এই সফটওয়্যার তৈরির কাজটাও যে লেখনী জগতে এক বিপ্লবেরই শামিল।
অভ্র কী-বোর্ড আসার আগে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বাংলা ভাষার প্রতিপত্তি একদমই ছিলো না, এটা তো সবার জানা!
এরপরের সময়টা মেহদির আত্মনিবেদন।
বিপ্লবকে সফল করার প্রতিজ্ঞা।
দুর্ধর্ষ ১৮ বছর বয়েসটাকে দরজার ওপাশে আটকে, হোস্টেলের একটা রুমে নিজের পৃথিবী বেঁধে ফেলে মেহদী তখন গোটা পৃথিবীর জন্য বাংলা ভাষাকে উন্মুক্ত করে দেয়ার যুদ্ধে নেমে গেছে।
বিপ্লবের শ্লোগান “ভাষা হোক উন্মুক্ত”!
রুমে না গেলে ছেলেটার সাথে দেখা হয়না।
কলেজ ক্যান্টিনে নেই। মাথার চুল ছেড়ে দেয়া বাড়তে দিয়ে, থুতনির নিচে ফিনফিনে দাঁড়ি গজাচ্ছে। চোখের নিচে কালিটুকু হয়ে যাচ্ছে স্থায়ী।
এর মাঝে আছে মেডিকেল নামের রোড রোলার। তাবৎ বিজ্ঞ শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দিলেন, এ ছেলে মেডিকেলের অনুপযোগী। বিজ্ঞ শিক্ষকেরা বলে দিলেন, সময় থাকতে মেডিকেল ছেড়ে দিতে।
মেডিকেলের অসহ্য, দমবন্ধকরা পৃথিবী মেহদীকে চেপে ধরছিলো আষ্টেপৃষ্ঠে, মরে যাওয়ার কথা ছেলেটার। একদিকে নতুন আইডিয়া, তাঁর স্বপ্ন, আরেকদিকে মেডিকেল। অসম্ভব অস্থিরতা কাটাতে যখন রাতে একটু রাস্তায় হাঁটত মেহদি, তাঁর একাকী পথের সঙ্গী হত হোস্টেলের সারমেয়বাহিনী।
মেহদি আটকায়নি। সৃষ্টি সুখের উল্লাস প্রথম সফল হয় ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ! অভ্র’র আবির্ভার এই দিনেই। মেডিকেলটাও শেষ করেছেন সন্মানের সাথেই। আটকায়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অনেক রথীমহারথী চিকিৎসক তৈরী করেছে, আর অন্যদিকে সব অপমানকে হেলায় তুচ্ছ করে মেহদী বরং সেই কলেজটাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
মেহদি লেগে থেকে এই পৃথিবীকে যেটা দিয়েছে,
তা হচ্ছে মুক্তি, স্বাধীনতা। বাংলা লেখার স্বাধীনতা। ইংরেজি হরফ নিজেই রূপান্তরিত হয়ে বাংলায় মনখোলার স্বাধীনতা।
উন্মুক্ত এই সফটওয়্যার বাঁচিয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। সরকারি দপ্তরগুলোতে অভ্র ব্যবহার হয়। নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে আমার আপনার পরিচয়পত্র বানাচ্ছে, পাসপোর্ট বানাচ্ছে, সরকারি ফাইলে হচ্ছে লেখা। সবকিছুর মূলে ছিলো মেহদির সেই এক রুমের পৃথিবী, একটা ছোট্ট কম্পিউটার আর পর্বতসম স্বপ্ন। স্বপ্নের নাম ‘অভ্র’। অভ্র, মেহদির ব্রেনচাইল্ড। সেই সন্তান আজ আমাদের সকলেরই আত্মজ।
বাংলা ভাষাকে ভালবেসে আজ আপনি যত পোস্ট করবেন, অভ্র’র সাহায্যে, তা হয়তো সম্ভবই হতো না মেহেদি না থাকলে। তাই আপামর বাঙালীর কাছ থেকে সেই প্রচারবিমুখ, নিজের কাজে ডুবে থাকা একাগ্র ছেলেটার জন্য অনেক শুভকামনা।
Courtesy Ashiq Rono

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..