সেই কুষ্টিয়া কলেজ এবং স্মরণীয় একটি দিন…=আতিক হেলাল

বিশেষ সংবাদ সর্বশেষ

 

সেই কুষ্টিয়া কলেজ এবং স্মরণীয় একটি দিন…

দীর্ঘদিন পর, আমার প্রিয় শিক্ষকদের সংগঠন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম তারুণ্যের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসে।
সেখান থেকে গেলাম কুমারখালীর বাঁশগ্রামের নিতাইল পাড়ায় কুষ্টিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর হাসানুজ্জামানের বাগানবাড়িতে। আয়োজনের নাম দেয়া হয় : বার্ষিক বনভোজন ও লেখক সমাবেশ ২০১৯। নাম বড় কথা না, বড় ঘটনা হলো, অনেক দিন পর আমার প্রিয় কলেজের প্রিয় শিক্ষকদের সাথে মিলিত হওয়ার দুর্লভ সুযোগ পাওয়া। যে সুযোগটি তৈরি করে দিয়েছেন এই সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আমার প্রিয় শিক্ষক, কুষ্টিয়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিশেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আজমল গণি আরজু। পরিষদের সদস্যবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন (অধিকাংশই সপরিবার) প্রফেসর মোঃ মুুসাউদ্দীন বিশ্বাস, প্রফেসর মোঃ হাসানুজ্জামান, প্রফেসর মোঃ শরীফুল ইসলাম, প্রফেসর মোঃ রুহুল আমিন,প্রফেসর মোঃ আতিয়ার রহমান, প্রফেসর মোঃ আখতার হোসেন, প্রফেসর মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রফেসর মোঃ আব্দুল ওদুদ, প্রফেসর আবু জাফর সিদ্দিকী।

পরিষদের সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘উদ্দীপন’-এর লেখকদের মধ্যে আমার সাথে আরও ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, ড. নবীনূর রহমান খান, আজম মনিরুল ইসলাম, শিহাব উদ্দীন আহম্মেদ, ওলিউর রহমান ও স্থানীয় দৈনিক আজকের সূত্রপাত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আক্তার হোসেন ফিরোজ।

জায়গাটি প্রফেসর হাসানুজ্জামানের বাগানবাড়ি বলেই পরিচিত। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম তাঁর মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ-মাদরাসা, এতিমখানা ইত্যদি। এক কথায় অভিভূত হলাম। সঙ্গতি থাকলেও মা-বাবার জন্য এমন সেবামূলক স্থাপনা কয়জন করতে পারেন? তিনি পেরেছেন। আলহামদুল্লিাহ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সেই ‘মারকাযুল উলুম সুফিয়া-মহিউদ্দীন কওমী মাদরাসা’ সংলগ্ন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে এলাকাটি যথাসম্ভব ঘুরে দেখলাম। সেখানকার ঈদগাহ ও পুকুরপাড়ের ছায়া সুনিবিড় শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে সত্যিই ভালো লেগেছে।

তবে সেখান থেকে বের হয়ে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ ছিলো না। কুমারখালীর বাসিন্দা, আমার স্নেহভাজন, স্থানীয় এনজিও ‘বর্ণমালা সংস্থা’র পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বারংবার বলেছিলো ওইদিকে গেলে তাকে খবর দেয়ার জন্য। দিলাম খবর। সে অনেক কষ্ট করে এসে আমার সাথে দেখা করে গেলো। কিছুটা সময় কাটালো আমার সাথে। বিদায়বেলায় তার সাথে ছিলো বাঁশগ্রাম বাজারের মজাদার দুধ-চা পান। যা ছিলো বেশ উপভোগ্য।

আমার বন্ধুপ্রতীম ড. নবীনূর রহমান খান ও কলেজ জীবনের ছাত্রনেতা শিহাব উদ্দীনের কথা বিশেষভাবে না বললেই না। নবীনূর খানের সাথে ফেসবুকেই যোগাযোগ চলতো, দেখা হলো এই প্রথম। অনেক সম্মান, ভালোবাসা আন্তরিকতার সাথে আমাকে গ্রহণ করেছেন তিনি। এজন্য তিনি এবং সাবেক ছাত্রনেতা, বর্তমানে কলেজ শিক্ষক শিহাব উদ্দীনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এবং যথারীতি কুষ্টিয়ায় আমাকে সার্বক্ষণিক সাহচর্য দেয়ার জন্য ধনবাদ জানাতেই হয় স্থানীয় দৈনিক আজকের সূত্রপাত-এর সম্পাদক ও প্রকাশক আক্তার হোসেন ফিরোজের প্রতি।

সবশেষে, পুরো আয়োজনটি সর্বাঙ্গীণভাবে সংগঠিত ও পরিচালনা করার জন্য অন্যা সবাইকে সাথে নিয়ে যিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন, তিনি আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী। তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা না জানালে অন্যায় হবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *