সত্য বলছি, ওরা দূষিত রক্তের দূষিত মানুষ = লুৎফর রহমান হেদায়েত

বিশেষ সংবাদ সর্বশেষ

 

সত্য বলছি,
ওরা দূষিত রক্তের দূষিত মানুষ

২৩ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর সেই মীরজাফরদের নির্লজ্জ চক্রান্তে নবাবীয় শাসন সমাধীস্থ হওয়ার পর থেকে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন, শোষণ, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, হত্যা, জুলুম ও অবিচারের নারকীয় এক জ্বালাময় ভূমিতে পরিনত করেছিল এই ভারত উপমহাদেশেকে৷
ইতিহাসে সাক্ষ্য দেওয়া সেই করুন চিত্রগুলোর নির্মমতার পাতাগুলোতে দৃষ্টি দিলে আজও কলিজার ছেদাংশের কষ্টগুলো গরল অশ্রু হয়ে গাল ধুয়ে জবাই করা পাখির রক্তের মতো টপটপ করে পড়তে থাকে আর হৃদয়টা আহত বাঘের মতো প্রতিশোধের নেশায় আগ্নেও গিরির জলন্ত লাভার মতো টগবগ শুরু করে৷

বঙ্গভঙ্গের সূত্র ধরে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভক্ত হলেও ভারতের কাছে আমরা পূর্ব-নদিয়া এবং (তেপ্পারা) ত্রিপুরা পূর্ব বাংলার অংশ হিসেবে আজও বুঝে পাইনি যা চুড়ান্ত দেশবিভাজনে এই অঞ্চলগুলো পূর্ব পাকিস্থানের অংশ হিসেবে ইতিহাস এখনো জীবন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছে৷
যদিও যুক্তিসঙ্গত কারণেই কোলকাতা, হাওড়া, হুগলী, বীর্ভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর, মাল্দা,মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম দিনাজপুর, পশ্চিম নাদিয়া, দার্জীলিং, জলপাইগুড়ি, আসাম, বিহার, উড়িষ্যা এবং বর্তমান বাংলাদেশ সহ এই বিস্তৃত অঞ্চলের বাঙালীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটা বঙ্গদেশ গঠন করা সমস্ত বাঙালীর নৈতিক দাবী যা অনস্বীকার্য।
দেশবিভাজেনর ভিলেন “সিরিল রেডক্লিফ” যদি অন্ধকারে কলমের খোঁচায় এইভাবে দায়সারা পাকিস্থান- ভারত নামের দুটি চিত্র অঙ্কন না করতেন তাহলে সুনিশ্চিত ভাবেই আমরা বলতে পারি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সূত্র ধরেই সমস্ত বঙ্গ অঞ্চল নিয়ে আমরা অবশ্যই একটা বিশাল স্বাধীন বাংলার মালিক এতো দিনে হয়ে যেতাম এটা অাশ্চর্যের কোন বিষয় নয়৷

অপর দিকে উর্দুভাষী পাকিস্থানীদের সাথে এই ভূখণ্ডকে একত্রে একটা জোরজবরদস্তিমূলক রাষ্ট্র করে দেওয়ার ফলে আমরা বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও প্রকৃতপক্ষে পাকিস্থানের গোলাম হয়েই রয়ে গেলাম৷
দীর্ঘ কন্টকাবৃত্ত রক্ত পিচ্ছিল পথ পারি দিয়ে লাখো জীবনের বলীদানের মধ্য দিয়ে অবশেষে ১৯৭১ খিস্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বরে আরেকটি কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি বাদ আক্ষরিক একটা সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের আমরা মালিক হতে পেরেছি ঠিক কিন্তু স্বার্থবাদী ভারতের স্বাধীনতার পেছনে উল্লসিত সহযোগীতার লোভাতুর শকুনীয় চক্ষুকে আমরা অন্ধরা আজও আবিষ্কার করতে পারিনি৷

যাই হোক, পরাধীন রাষ্ট্রীয় বন্দিত্ব জীবন কতটা ভয়, উৎকণ্ঠা, অনিশ্চিত, অসহায় আর যন্ত্রণাময় তা ব্যাঘ্রের খাঁচায় বন্দি হরিণের দিকে মানবিক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে আজন্মপাপী ছাড়া সবাই নিশ্চিত অনুমান করতে পারবে৷

এইবার বলছি দূষিত রক্তের আজন্ম পাপী দূষিত মানুষগুলোর কথা৷ যারা আকৃতিতে মানুষ হলেও প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীবাসীর জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকারক কীট ছাড়া এরা আর কিছুই নয়৷

রেডক্লিফ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে কলংকিত রেড লাইন তৈরি করলেন কিন্তু, সেখানে বাদ দিলেন কাশ্মীর অঞ্চলটিকে৷
কাশ্মীর অঞ্চটি পড়ে রইলো অমিমাংশিত অঞ্চল হিসেবে৷ পরবর্তিতে একাংশ পাকিস্থান নিয়ে নিলেও আরেক অংশ পড়ে রইলো ভারতীয় দানবদের পায়ের নিচে৷ তারা সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই অবৈধ দখলদারিত্বের মাধ্যমে সেই অঞ্চলের মানুষগুলোর উপর লোমহর্ষক নির্যাতন করে চলছে৷ শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, নারীগুলোর কান ছিঁড়ছে, চুক্ষু তুলে ফেলছে, কলিজা টেনে বের করছে, গলা কেটে, গুলি করে মেরে মেরে উল্লাস করছে৷ নারীদের উপর চলছে পালাক্রমে ধষর্ণ৷
এরকম পৈশাচিক অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি চাওয়া কি তাদের অপরাধ! ওদের পক্ষে কথা বলা কি অপরাধ! তাদের প্রতি সহানুভূতি জানানো কি অপরাধ!
যারা এই মজলুমদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে অপরাধ মনে করে আমি বলি, “ওরাই দূষিত রক্তের দূষিত মানুষ, ওরা জ্ঞানপাপী পিশাচ৷”

৮/o৩/১৯
কপিরাইটঃ লুৎফর রহমান হেদায়েত

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *